এতো নাফরমানীর পরও আবার আবেদন নামঞ্জুরীর অভিযোগ:

আগেকার যুগের মুসলিমগন তাদের ব্যবসাপণ্য বা বিক্রিতব্য বিষয়ে কোন দোষক্রটি থাকলে তা ক্রেতাকে না জানিয়ে বিক্রি করতেননা। ত্রুটিযুক্ত জিনিস যদি ভুলবশত বিক্রি হয়েও যেতো তাহলে ক্রেতার বাড়ী গিয়ে এ ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া কিংবা এর প্রতিবিধান বা কাফফারা আদায় ব্যতিরেকে তাদের ইমানদার দিল স্বস্তি পেতোনা।
একবার প্রখ্যাত ফিকাহবিদ ইবনু সিরীন একটি ছাগী বিক্রয় করলেন। ক্রেতাকে তিনি বললেন: ছাগীটির দোষ আছে, তা তোমাকে বলে আমি দায়িত্বমুক্ত হতে চাই। তাহলো: এটি খাবার সময় তার পা দিয়ে ঘাস এদিক ওদিক ছড়িয়ে দেয়।
আর একবার হাসান ইবনু সালিহ একটি ক্রীতদাসী বিক্রয় করলেন। ক্রেতাকে বললেন: মেয়েটি একদিন থুতুর সাথে রক্ত ফেলেছিল। তবে তা হয়েছিল মাত্র একদিন। আর এক তাবেঈ ভুলক্রমে এক ক্রেতার নিকট কমদামের কাপড় বেশীদামে বিক্রয় করেন। ভুলটি সংঘটিত হয় ঐ তাবেঈর কর্মচারীর মাধ্যমে। কিন্তু তথাপিও তিনি তিন দিন দু’রাতের পথ অতিক্রম করে ঐ ক্রেতার বাড়ীতে গিয়ে হাজির হন। ক্রেতাকে বললেন: হয় আপনি আপনার আদায়কৃত মুল্য অনুসারে বেশীদামী এ কাপড়টি গ্রহন করুন অথবা আপনার অতিরিক্তি অর্থ ফেরত নিন।

জীবন যাপনের এমনি ধারা ছিল খাইরুল কুরুনের মুসলিমদের। তখন তারা দোয়া করলে আকাশ ফুড়ে বৃষ্টি নামতো।
আর এ যুগের মুসলমানদের অবস্থা ঠিক এর বিপরীত। একজন কাফির যা করে মুসলমানও ঠিক তা-ই করে। বরং কোনো কোনো মুসলমানের জীবনধারা ও ব্যবসা বানিজ্য কাফিরের চেয়েও নিকৃষ্ট। বন্যা, অতিবৃষ্টির কারন নিজেরা সৃষ্টি করে অত:পর বলা হয়: আল্লাহ আমাদের ফসলাদি নষ্ট করে দিয়েছেন। আল্লাহ যদি তাদেরকে ডানদিকে যেতে বলেন তাহলে তারা বাম দিকে দৌড়ায়, আর সামনে যেতে বললে পেছনে হাটে।
এতসব করার পরও আবার আল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়: “আল্লাহকে তো অনেক ডাকলাম, কিন্তু কই সাড়াতো পাইনা”।    

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)
ইসলামের প্রথম যুগে (অর্থাৎ খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়ে) সৈনিকদের পায়ের তলায় কারো ক্ষেতের ফসল নষ্ট হলেও সেজন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হতো। অথচ বর্তমানে মনে করা হয়, দেশের জন্য বা ধর্মের জন্য জনগণকে একটু কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার না করলেই নয়। এমনকি ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণের জান-মালের ক্ষতি সাধন করাকেও জায়েয মনে করা হয় এবং কোরআনের রেফারেন্স দিয়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে 'আল্লাহর রাস্তায় ভুল করলেও সেটা মার্জনীয়' এমন একটা তত্ত্ব প্রচার করা হয়। আর নিজেদের ব্যর্থতা ও বিপর্যয়কে আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার কখনো বা মনে করা হয়, নবী (সা.) ও সাহাবাদের সময় অলৌকিক মোজেজার মাধ্যমে সহযোগিতা করা হতো বলে তাঁরা বিজয়ী হতেন, আর আজ বুঝি আল্লাহ মুসলিমদেরকে বা ইসলামী আন্দোলনকারীদেরকে পরাজিত ও বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখতে চান বলেই সাহায্য করছেন না!

আস সালামু আলাইকুম

খুব ভাল লিখেছেন। নিয়মিত লিখবেন আশা করি।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)