আমরা কুরআন মানি, হাদীস মানি না - পর্ব ১

আমরা কুরআন মানি, হাদীস মানি না

 পর্ব  ১

    জাবীন  
হামিদ

হাদীস অস্বীকারকারী :

          এটা খুবই দুঃখজনক যে কিছু মুসলমান আল্লাহর শেষ  নবী হজরত মুহম্মদ সাল্লাললাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের সব হাদীসকে অস্বীকার করে । এক কথায়, তারা নবীর আনুগত্য করতে অস্বীকার করলো । অথচ আল্লাহতাআলা
পবিত্র কুরআনে বলেছেন - ‘‘রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো ও যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো । আল্লাহ তো
শাস্তি দানে কঠোর (সূরা হাসর , ৫৯ : ৭ )

আল্লাহর এই  আইনকে  মানতে
যারা অস্বীকার করে, তারা  এমনভাবে ইসলামকে ব্যাখ্যা করে যেন ধর্ম
সম্পর্কে তারাই একমাত্র জ্ঞানী । তারা ভাবে রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের যুগের সেরা সাহাবীগণ  ও পরবর্তী
যুগের তাবেয়ীগণ সবাই ছিলেন বোকা । তাই তারা কেউই ইসলামকে বোঝেন নি । এই হাদীস
অস্বীকারকারী নিজেদেরকে বেশী বুদ্ধিমান ভেবে স্বয়ং আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করছে,  নাউযুবিল্লাহ ।

এরা কি মুসলমান ?

মুখে দাবী করা যে আমি
মুসলমান আর আচরণে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করা মুনাফিকের লক্ষণ । শেখ নওমান
আলী খান বলেন, রাসূল সাল্লাললাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগের মুনাফিকরা চাইতো কুরআন থেকে রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লামকে আলাদা করতে । তাহলে তারা ইচ্ছামতো কুরআনকে ব্যাখ্যা করতে পারবে
নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ।

তাই তারা দাবী করতো, শুধু কুরআন তেলাওয়াত করা বা মানুষের কাছে কুরআনের বাণী
প্রচার করেই রাসূলের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় । বাকী কাজ উনি যা কাজ করেছেন তা উনার
ব্যক্তিগত বিষয় ।

আজকাল হাদীসকে অস্বীকার
করা অনেকের কাছেই ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে । তারা গর্বভরে বলে, আমরা কুরআন মানি, হাদীস মানি না। এদের সম্পর্কে রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যত বাণী করে গিয়েছেন । তিনি বলেছেন , খুব তাড়াতাড়ি তোমাদের মধ্যে
এমন লোক পাবে যে আসনে হেলান দিয়ে বসে আমার কোন হাদীস বর্ণনা করবে ; তারপর সে বলবে, ‘‘ আমাদের ও তোমাদের মধ্যে তো আল্লাহর কিতাবই রয়েছে । কুরআন
যা বলে তাই আমরা হালাল বলে মেনে নেই, কুরআন যা নিষেধ কর তাই আমরা হারাম জানি,’’ কিন্তু শুনে রাখো- আল্লাহর রাসূল যা নিষেধ করেন, তা আল্লাহর নিষেধের মতই ।

(বর্ণনায় আহমদ, আবু দাউদ ও আল হাকিম) ।

আল্লাহ পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াতের মাধ্যমে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন রাসূল
সাল্লাললাহু আলইহি ওয়া সাল্লামের এই ক্ষমতা রয়েছে । যে রাসূলের অনুসরণ করে সে তো
আল্লাহরই আনুগত্য করলো এবং যে মুখ ফিরিয়ে নেবে তোমাকে আমি তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক
রূপে প্রেরণ করি নি ( সুরা নিসা; ৪. ৮০) ।

আল্লাহ এখানে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামকে মেনে চলা মানে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য দেখানো । আল্লাহ আরো বলেন, ‘বল,  তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস তবে আমাকে অনুসরণ ও তোমাদের
অপরাধ মাফ করবেন । আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (সুরা ইমরান; ৩.৩১) ।

এখন  তথাকথিত  অনেক আধুনিক মুসলমান গর্ব ভরে বলে থাকে, আমরা শুধু কুরআন মানি । অথচ রাসূল সাল্লাললাহু আলইহি ওয়া
সাল্লামের সময়ের একজন সাহাবীও এ ধরণের দুঃসাহস দেখান নি । বেঁচে থাকতে যারা বেহেশত
লাভের সুসংবাদ পেয়েছেন সেই বিবি খাদিজা রাঃ, হজরত আবু বকর রাঃ, হজরত উসমান রাঃ প্রমূখ কেউই কোনদিন নবীজীর অবাধ্যতা করেন
নি ।

 

আজ আমরা অনেক কিছু পালন করি না 
কেননা সেটি ফরয নয়  সুন্নত অথচ
সাহাবীরা, তাবেয়ীনরা অনেক
কিছু এজন্য মেনে চলতেন কেননা সেগুলি ছিল সুন্নাত । সাহাবী আর আমাদের
মধ্যে ঈমানের পার্থক্য দেখুন । সুন্নতকে আমরা অবহেলা করি আর বেহেশতের সুসংবাদ
প্রাপ্ত মানুষেরা সুন্নতকে কতই না মর্যাদা দিতেন, সুবহান আল্লাহ।

আল্লাহ সাবধান করে বলেছেন, ‘‘তারা ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেদের বিবাদ বিসংম্বাদের
বিচার তোমার উপর অর্পণ না করে (সুরা মায়িদাহ; ৫.৬৫) ।

আল্লাহ এখানে পরিষ্কার বলে দিয়েছেন রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এর ফয়সালা যারা মানতে চায় না, তারা কাফির । তাই ‘হাদীস মানি না’ – এটা বলার কোন সুযোগ নেই আমাদের ।

আপনার রেটিং: None

Onak valo and gurtto purno topic nia likcen.
Tnx

-

ZAHID

সালাম

পড়ার  জন্য  ও  কষ্ট স্বীকার করে  মন্তব্য   করার  জন্য আপনাকেও  ধন্যবাদ  , যাজাকআল্লাহ  খায়ের  ।

Rate This

আপনার রেটিং: None