গুরুতর পাপ

একটি
কুচক্রিমহলের প্ররোচণা আর প্রশ্রয়ে দেশব্যাপী সম্প্রতি জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ মাথাচড়া দিয়ে উঠেছে। জঙ্গিরা একের পর এক ভয়াবহ ঘটনার
জন্ম দিয়ে চলেছে। তবে ইসলাম
ধর্মের নামে তথাকথিত মুসলিম নামধারী জঙ্গিরা একের পর এক সন্ত্রাসী জঙ্গি কর্মকাণ্ড
চালিয়ে মূলত ইসলাম ও মুসলিম জাতিকেই কলঙ্কিত করছে। জঙ্গিদের আক্রমণে
নিহত হচ্ছে সাধারণ মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঘরবাড়ি এবং
অর্থসম্পদ। জঙ্গিরা মূলত একটি কুচক্রিমহলের ইশারায় নানা কিছু অসাধু উদ্দেশ্য
হাসিলের জন্য বিভিন্ন ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে ইসলাম ও মুসলমানদের উপর
চাপিয়ে দেয়। এতে করে ধর্ম-দেশ-জাতির বিরাট ক্ষতি হচ্ছে। তাদের এমন কার্যক্রম ইসলাম
কখনো অনুমোদন করে না। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম অর্থ
শান্তি-নিরাপত্তা ও মহান আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা। ইসলামের সাথে
সন্ত্রাস-উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠিত ও
স্বীকৃত ইসলামি সংগঠন, কোনো মাদরাসা, প্রকৃত
আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখরা কোনো ধরনের জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে
জড়িত নেই। মাদরাসার আলেম-ওলামা এবং ইসলামি নেতৃবৃন্দসহ সচেতন ধর্মপ্রাণ এবং
প্রত্যেক দেশপ্রেমিক মানুষ উগ্রবাদ-সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের ঘৃণা করেন। গ্রেনেড ছুড়ে,
গুলি করে বোমাবাজি, আত্মঘাতী হামলা তথা বোমা
মেরে, নির্দোষ মানুষ হত্যাসহ জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের মাধ্যমে
কখনো্ জঙ্গীবাদিদের তথাকথিত ইসলামী আইন বা শরিয়াহভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা যাবে
না। কারণ উগ্রবাদী, জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী তৎপরতা দিয়ে
পৃথিবীতে ইসলামের আত্মপ্রকাশ হয়নি। ইসলাম তার অন্তর্নিহিত স্বকীয় বৈশিষ্ট্য,
সম্প্রীতি, উদারতা ও পরমতসহিষ্ণুতার মাধ্যমে
পৃথিবীময় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। বোমাবাজি, মানুষ হত্যা,
সন্ত্রাস, ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি ও আত্মঘাতী তৎপরতা
ইত্যাদি ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যারা এগুলো করছে তারা বিভ্রান্ত, কুচক্রিদের ক্রীড়নক। ইসলাম ধর্মের নামে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে
তাকে সন্ত্রাসবাদ না বলে সবাই জঙ্গিবাদ বলেই আখ্যায়িত করছে। জঙ্গি বা জঙ্গিবাদ
নামে কোনো খবর প্রকাশিত হলে ধরে নিচ্ছেন এটা মুসলিমদের কাণ্ড। শুধু তাই নয়,
ধরে নেয়া হয় যারা সুন্নতি লেবাস পরিধান করে, দাড়ি
রাখে, টুপি পরে এবং আল্লাহু আকবারের তাকবির উচ্চারণে করে
তারাই সাধারণত এই কাজের সাথে জড়িত। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহু আকবারের তাকবির স্লোগান
এবং ইসলামী বইপুস্তক, সুন্নতি লিবাস পরিধান করা
দাড়ি-টুপিধারী ব্যক্তিদের ঢালাওভাবে জঙ্গি বানানো কোনো সচেতন-বুদ্ধিমান এবং প্রকৃত
মুসলমানেরও কাজ নয়! এ ধরনের মানসিকতা ও ধারণা থেকে দূরে থাকা জরুরি। ইসলাম অর্থ
শান্তি-নিরাপত্তা ও মহান আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা। ইসলাম শান্তির ধর্ম।
ইসলামের সাথে সন্ত্রাস-উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বোমাবাজী, আত্মঘাতী হামলা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদ
ইসলামে গুরুতর অপরাধ। নির্দোষ মানুষ হত্যাসহ জঙ্গিবাদী কার্যক্রম শান্তির ধর্ম
ইসলাম অনুমোদন করে না। পৃথিবীতে ফেতনা-ফাসাদ, রক্তপাত,
বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, বোমাবাজি,
নিরপরাধ মানুষ হত্যা, সন্ত্রাস, ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করা ও আত্মঘাতী তৎপরতা ইত্যাদি ইসলামে সম্পূর্ণ
নিষিদ্ধ।  জঙ্গিবাদ এক গুরুতর পাপ বা গোনাহ। এ বিষয়ে
মহান আল্লাহ কুরআন কারিমে এরশাদ করেন- ‘পৃথিবীতে বিপর্যয়
সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হইও না। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে পছন্দ করেন না’। (সুরা কাসাস ৭৭) আল্লাহপাক বলেন-‘ফিতনা হত্যা অপেক্ষা গুরুতর পাপ।’ (সূরা বাকারা:
১৯১) আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে
ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার শাস্তি জাহান্নাম। সেখানে সে
চিরকাল থাকবে’। (সুরা
নিসা: ৯৩) (বুখারি: ৬০৪৪) মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- ‘নরহত্যা কিংবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করা ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে যেন
দুনিয়ার সব মানুষকেই হত্যা করল’। (সূরা
মায়েদা: ৩২)রাসূল সা: এরশাদ করেছেন- কোনো মুসলমানকে গালি দেয়া গোনাহর কাজ, আর তাকে হত্যা করা কুফরি। 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None