রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কমুনিষ্টদের চক্রান্ত ও অপতৎপরতা

বর্তমানে রোহিঙ্গা মুসলমানরা তিন দিক থেকে সাঁড়াশি আগ্রাসনের শিকার। এক দিকে বর্মী বামপন্থী সামরিক বাহিনী উগ্র বৌদ্ধ জঙ্গিদের সহায়তায় সরাসরি গণহত্যা চালাচ্ছে, অপরদিকে বর্মী হায়েনাদের এদেশীয় এজেন্ট ধর্মবিদ্বেষী ব্লগাররা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণাব্যঞ্জক প্রচারণা চালিয়ে তাদেরকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কোণঠাসা করার অভিযান চালাচ্ছে, আবার আরেকদল এদেশীয় কমুনিষ্ট রোহিঙ্গাদের দরদী সেজে তাদের মুক্তিসংগ্রামকে অকেজো (neutralize) করার পাশাপাশি তাদেরকে ধর্মের পথ থেকে সরিয়ে দেবার তোড়জোড় করছে। একটু খেয়াল করলে বা মাথা খাটালেই বোঝা যাবে, এই তিনটি বাহিনী মূলত একই চক্রের তিনটি শাখা এবং এই তিন বাহিনীর অভিযান একই পরিকল্পনার আওতায় সংঘবদ্ধভাবে সংঘটিত হচ্ছে। নিচে এই তিন বাহিনীর তৎপরতা পৃথকভাবে আলোচিত হলো:-

১। বমী সামরিক জান্তা ও বৌদ্ধ জঙ্গিদের গণহত্যা ও নিধন অভিযান: এদের তৎপরতার কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। প্রত্যেকেই এ ব্যাপারে অবহিত আছেন।

২। নাস্তিক্যবাদী কমুনিষ্ট ব্লগারদের রোহিঙ্গাবিরোধী অপপ্রচার: বিভিন্ন ফেসবুক পেজে রোহিঙ্গাদের নানা কর্মের ফিরিস্তি শুনিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশী জনগণের মনে ঘৃণা ও বিতৃষ্ঞা সৃষ্টির প্রয়াস চালাচ্ছে ধর্মবিদ্বেষী ব্লগাররা। কোন কোন পেজে তারা এটা করছে ছদ্মবেশে, অর্থাৎ আসল পরিচয় ও উদ্দেশ্য গোপন করে। আবার কোন কোন পেজে তারা সরাসরি স্বরূপে আবির্ভূত হচ্ছে। এর দ্বারা তারা মূলত দুটি উদ্দেশ্য হাসিল করতে  চাচ্ছে; তাহল, একদিকে রোহিঙ্গাদের কোণঠাসা ও বিপদগ্রস্ত করা এবং বাঙ্গালী মুসলমানদেরকে নিষ্ঠুর ও হিংসাপরায়ণ করে তোলা, অপরদিকে রোহিঙ্গাদের কথিত নেতিবাচক কর্মকাণ্ডকে রসূলুল্লাহ (সা.)-এর কথিত ইহুদী নিধনের সাথে তুলনা করে নবীবিদ্বেষ জাগ্রত করার দ্বারা নতুন প্রজন্মকে ধর্মবিরোধী সেকুলার গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করা।

৩। কমুনিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর কৃত্রিম দরদ ও স্যাবোটাজ: কিছু কমুনিষ্ট রাজনৈতিক দল রোহিঙ্গাদের দরদী সেজে তাদেরকে মুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে কমুনিষ্ট বানানো এবং ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মের পথ থেকে দূরে সরানোর কোশেশ করছে। তাদের পোস্টারের দুটি কথা থেকে তাদের কুমতলব স্পষ্ট; যথা- (ক) "ধর্মের নামে রোহিঙ্গাদের মুক্তিসংগ্রামকে বিপথগামী করার চক্রান্ত প্রতিহত করুন" এবং (খ) "মার্কসবাদ ও মাওবাদ তথা কমুনিজমই রোহিঙ্গা সহ পৃথিবীর সকল নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর মুক্তির একমাত্র পথ।

কী আশ্চর্য কথা! যেই কমুনিজম তথা নাস্তিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কমুনিষ্ট সৈন্যবাহিনী একটি ধর্মবিশ্বাসী জনগোষ্ঠীকে নির্মূল অভিযানে নেমেছে, সেই কমুনিষ্ট তাণ্ডব প্রতিহত করা ও সেই তাণ্ডব থেকে নিপীড়িত জনতাকে রক্ষা করা সম্ভব কিনা কমুনিজমের মাধ্যমে? এ তো মূলত সেই শয়তানের আহবানতুল্য, যে কিনা মৃত্যুকালে মানুষের কাছে এসে বলে, "আমাকে একটা সেজদা করলেই তোমার প্রাণ বাঁচিয়ে দেব।" প্রকৃতপক্ষে মুসলিম তথা মজলুম মানবতার জন্য একমাত্র মুক্তির পথ তো ইসলাম। নিপীড়িত রোহিঙ্গা মুসলমানরা যাদে মুক্তির সঠিক পথ ধরে মুক্তি অর্জন করতে না পারে, যাতে কমুনিষ্ট মগদের ধর্ম উৎখাতের প্রজেক্ট ব্যর্থ করে দিয়ে ধর্মপ্রেমী মুসলমানরা বিজয় অর্জন করতে না পারে, সেজন্যই কমুনিষ্ট দলগুলো রোহিঙ্গাদের মুক্তিকামী সেজে তাদেরকে ইসলাম তথা জিহাদের পথ থেকে সরিয়ে ধর্মদ্রোহিতা তথা কমুনিজমের পথে আহবান করছে।

রোহিঙ্গা নিধনের বিষয়ে মিডিয়াতে বর্মী সামরিক জান্তা ও কমুনিজমের কথার চাইতে সুচি ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কথা বেশি প্রচারিত হওয়ায় রোহিঙ্গা নিধনের আসল হোতা কমুনিষ্ট সামরিক নেতৃত্ব এবং কমুনিজমের চেতনা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে এবং বিষয়টাতে ধর্মীয় উন্মাদনাটা বেশি প্রকাশ পাওয়ায় ধর্মকে মানুষের দুর্ভোগের কারণ প্রমাণের চেষ্টাকারী কমুনিষ্ট তথা রোহিঙ্গাদের আসল ঘাতকদের উদ্দেশ্যটাই পূরণ হচ্ছে।

কমুনিষ্ট গোষ্ঠীগুলো তিন রূপে তিন দিক থেকে রোহিঙ্গাদের দিকে এসে টুঁটি চিপে ধরছে। একটি দলের কাজ রোহিঙ্গাদের নির্মূল করা; আর বাকি দুটি দলের কাজ রোহিঙ্গাদের মুক্তির সমস্ত পথ ও ছিদ্র বন্ধ করা। আল্লাহ এই ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে রোহিঙ্গা তথা সকল মুসলিমকে রক্ষা করুন। আমীন।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None